সূচীপত্র

গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

অনুগল্পঃ পিতা

সকাল আটটা। মোহাম্মদপুর টু মতিঝিল। গেটলক ২০ টাকা সিটিং সার্ভিস বাস। জিগাতলা নামার আগে ৫ টাকা ভাড়া দিল যুবক।
কন্ডাক্টর বিশ টাকার কমে নিবে না। বলে, কম নিলে তার পকেট থেকে যাবে।
এই নিয়ে তর্কাতর্কি, ঝগড়াঝাটি, গালাগালি। এক পর্যায়ে কন্ডাক্টরকে দাড়াম করে ঘুষি মেরে বসল যুবক। বাসের মধ্যে হইচই। ড্রাইভার, হেল্পার, কন্ডাক্টর এর চিৎকার! অতঃপর বীরোচিত ভঙ্গি নিয়ে নেমে গেল যুবক।
কন্ডাক্টর জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে নেমে যাওয়া যুবকের উদ্দেশ্যে বলে উঠল, আমগোরে মাইরেন না, বাই। আমগোরে মারন বালা না। আল্লাহ'য় সইতো না।
এতক্ষণ চুপ থাকা বাসের যাত্রীরা এইবার কন্ডাক্টরকে বলে উঠল, তুমি কয়েকটা দিতে পারলানা না?
কন্ডাক্টর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত চেহারা নিয়ে বলতে লাগল, কী করমু, বাই! বাইচ্চা দুইডা অহনও ছোডো। না হইলে আইজকা খেলা একটা দেহায়া দিতাম অইলে। শক্তি আমগো গায়েও আল্লাহ'য় দিছে।

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯

অনুগল্পঃ শিক্ষা

সাঁতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে রানু বেগম দেখল, সেখানে বড় বড় শিক্ষকদের দ্বারা কেবল বড় বড় সাঁতারুদের জীবনী আর সাঁতারের উদ্ভব ও বিকাশ পড়ানো হয়। অতঃপর জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ প্রদান করা হয়।
ওখানে কোন জলাধার নেই। এমনকি বড় বড় শিক্ষকগণও কোনদিন পানিতে নামেননি।

অনুগল্পঃ কবিতা

রাত জেগে একখানা কবিতা লিখে ভোরবেলা কবি আক্ষেপ করে উঠলেন, আহা! এই সুন্দর, সহজ কবিতাখানি বোঝার মতো জ্ঞানী পৃথিবীতে যদি দ্বিতীয়জন থাকতো!

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

অনুগল্পঃ গণতন্ত্র

হোসেন মিয়ার পোয়াতি বউয়ের ব্যাদনা উঠছে। ভ্যানে কইরা দশ মাইল দূরের সরকারি হাসপাতালে নিয়া গিয়া দেখে সেখানে তিন দফা দাবি নিয়া ডাক্তারদের ধর্মঘট চলতেছে।

অনুগল্পঃ পোষাকের স্বাধীনতা

মাওলানা সাব ফযর নামায শেষে তসবিহ হাতে জেকের করতে করতে পার্কে হাঁটতে গিয়ে দেখেন সেখানে স্বল্পবসনা নারীগণ মর্নিং ওয়াক করছেন।
অতঃপর পার্ক হতে ফেরত আসলেন তিনি।

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

অনুগল্পঃ আভিজাত্য

ডঃ শফিক গ্রামের বাড়িতে টিনের ঘরের বারান্দায় তাঁর মুমূর্ষু মায়ের সয্যাপাশে বসে সচিত্র ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলেনঃ
আজ বিকেল পাঁচটার দিকে আমার শ্বাশুড়ি এবং আমার অর্ধাঙ্গিনী ডঃ ডালিয়া চৌধুরী'র গর্ভধারিণী মা প্রফেসর গুলশান আরা চৌধুরী একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে লন্ডনের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাবেন। সকলে তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

অনুগল্পঃ নারীবাদী

সকাল এগারটায় নারী সম্মেলনে 'গৃহকর্মে পুরুষের অংশগ্রহণের আবশ্যকতা' শীর্ষক বক্তৃতা শেষে ডঃ প্রমিলা চৌধুরী পুত্রবধুকে ফোন করে বললেন, মালা, খোকা কি ঘুম থেকে উঠেছে?
-না, মা। সে তো এখনও ঘুমায়।
- আচ্ছা। ঘুমাক। ডেকো না, কেমন? তুমি খেয়েছো কিছু?
- না, মা। ও উঠলে একসাথে খাবো।
- লক্ষী বউমা আমার! রাখি, কেমন?

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

অনুগল্পঃ ভাষার সভ্যতা

অনেকদিন পর সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে গেছে উছমান। ডঃ মোঃ উছমান সেক। উছাই। ডঃ নাহিদ উসমান। সাথে স্ত্রী, শিশুপুত্র।
উছমানের মায় কইল- উছাই, বাজান, উড়ুম ভাজতিছি। তোগো গরম গরম চাইড্ডা আইনা দিমু? খাবি? উড়ুম খাইবা দাদুভাই?
শিশুপুত্র এইটা শোনামাত্রই তার মাকে বলে উঠল, উড়ুম কী, মা?
উছমানের স্ত্রী বেশ বিব্রত হইল। মনে মনে কিছুটা ক্ষুব্ধও হইল। কিছু না বলে পুত্রকে হাত ধরে ঘরের ভিতর নিয়ে গেল। খানিক পর উছমানকে ঘরের ভিতর ডেকে বিরক্তি নিয়ে বলল, এইজন্যই তোমাকে বলি বারবার গ্রামে আসার কী দরকার? ছেলেটা ডিসগাস্টিং সব ওয়ার্ড শিখছে খেয়াল করেছো?
উছমান কোন কথা না বলে চুপ করে থাকল।
রাতে ঘুমানোের আগে ছোটবেলার কথা মনে হইতে থাকল উছমানের। উঠানে ঝাঁঝরের মধ্যে গরম বালিতে মড় মড় করে মায়ের মুড়ি ভাজার শব্দ কানে বাজতে লাগল। গরম মুড়ির ঘ্রান যেন নাকে এসে লাগতে লাগল। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল উছমান।
গভীর রাতে পুত্র হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে জেগে উঠল। কানতে কানতে বলল- আমি উড়ুম খাবো, পাপা। আমাকে উড়ুম এনে দাও।
উসমানের স্ত্রী জেগে উঠে পুত্রকে ম্যানেজ করতে করতে উসমানের দিকে কটমটিয়ে তাকাতে লাগল।

অনুগল্পঃ আন্দোলন

বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন জমে উঠেছে। মিছিল, মিটিং, প্রতিবাদী গান, প্রতিবাদী আবৃত্তি, ঝাঁঝালো স্লোগান।
স্লোগান দিতে সৈকত কেন যেন জোর পাচ্ছে না আজ। সোনিয়া এখনও আসে নাই।

অনুগল্পঃ আমানত

সকাল সকাল ক্যাশিয়ার সাহেবের ছোটভাই ব্যাংকে এসেছে আজ। ম্যানেজারকে বড় ভাইয়ের চাবি বুঝিয়ে দিতে। ম্যানেজার জিজ্ঞস করলেন, আপনার ভাই কি অসুস্থ?
ছোটভাই কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে উঠল, না স্যার! ভাই আর নেই। আজ ভোরবেলায়...।
ম্যানেজারের চোখ ধীরে ধীরে ছলছল করে উঠল।

মঙ্গলবার, জুলাই ২৫, ২০১৭

আষাঢ় মাসের গল্প



মিন্টু শাহজাদা

।এক।

সকালে ঘুম ভেঙেই মেজাজটা খিঁচড়ে আছে আজগরের। গ্যারেজ মালিক খুব জ্বালাচ্ছে আজকাল। খালি টাকা টাকা করে। গাড়ি চাইলে বলে-গাড়ি নাই। বাকি টাকা চায়।জোরাজুরি করে আজগর।বলে- ‘খুব মুছিবদে আছি মাহাজন সাব। এইবারের মতন দ্যান। কামাই বাড়লে দিয়া দিমু, কসম কইতাছি।’ কাকুতি মিনতি করতে হয়। শেষ পর্যন্ত গাড়ি দিলেও সেই মরা-ধরা, ভাঙা-চোরা গাড়ি। চালিয়ে জুত নাই। প্যাডেল মারলে এগুতেই চায় না। খালি গাড়ি টানার সময়ও মনে হয় পাঁচ মণ ভার নিয়ে টানছে গাড়ি। জমার টাকা মাঝে মাঝে একটু কমই দেয় আজগর। ইচ্ছা থাকলেও দিতে পারে না। ঘরে পোয়াতি বউ, ওষুধ কিনতে কিনতে জান শেষ। ছোট মেয়েটারও জ্বর। বড়টা তো জন্ম থেকেই লুলা। সারাদিন শুয়ে শুয়ে ক্যাও ক্যাও করার তালেই আছে।

বৃহস্পতিবার, জুন ২৯, ২০১৭

দাদা ও বগাদের গল্প


মিন্টু শাহজাদা

ভাতে লবণ খাইবে কি খাইবে না তাহা ঠিক করিতে বিশাল বৈঠকে বসিয়াছে অগা, মগা, বগা, হগা। নানারূপ আলোচনা করিয়া কোনমতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিতেছে না। অতঃপর দাদাকে ফোন করিয়া পরামর্শ গ্রহণ করিবার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হইল। মগা দাদাকে ফোন করিল।

শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৬

একজন হাচেন বেপারি ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প


মিন্টু শাহজাদা

মোল্লা বাড়িতে মানুষ নেই। কদু গাছের ডগাগুলো জংলা হতে ঝুলে পড়ে আছে অনেকদিন। উঠিয়ে জংলার চটায় আটকে দেবার লোকও নেই। বাড়িতে ঘরগুলোতে তালা ঝোলানো ছিল। মিলিটারিরা আগুন দেবার পর ঘরগুলো আধাপোড়া অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েকটা তালা আবার নির্বোধের মতোন ঝুলে আছে পোড়া দরজায়। আগুন ঠিকমত লাগাতেও পারেনি পাকি বলদগুলো। কবুতরের খোপগুলোও ভেঙ্গে পড়ে আছে। ভয় পেয়ে নয়ত খাবার না পেয়ে উড়ে গেছে কবুতরগুলো। বাড়ির উঠানে আধমরা কুকুরটা শুয়ে আছে নিরবে। এ বাড়িতে মানুষ নেই অনেকদিন। বাড়ির ছোট ছেলে খলিল মোল্লা পাড়ায় পাড়ায় হা-ডু-ডু খেলে। মাঝে মাঝে হায়ারেও যায় এ গ্রামে ও গ্রামে। নাটক, যাত্রাগানও করে। আমোদ আহ্লাদে গ্রামের মানুষকে মাতিয়ে রাখে। এ গ্রামে মিলিটারিরা ঢোকার আগে খলিলের শহরের বন্ধুরা এসেছিল বাড়িতে। তারপর থেকে খলিল আর তার দলবল কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে। শোনা যায়, ওরা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। বাড়ির মেয়ে বউঝিসহ সবাই আগেই ছাইবেড়ে চলে গেছে। ছাইবেড়ে অনেক দূর। ওখানে মাটির রাস্তা দিয়ে হেঁটে, নৌকা করে, ক্ষেতের আইল বেয়ে, বহুদূর হেঁটে হেঁটে যেতে হয়। যেতে তাও দিন তিনেক তো লাগেই। পাক বাহিনী ওখানে এখনও যায় নাই। হয়ত যেতে পারে নাই। যাবেই বা কেমন করে। অত দূর্গম জায়গায় তো গাড়ি ঘোড়া চলে না। ভাগ্যিস মোল্লা বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছিল ওদেশে। নইলে সবাই যেত কোথায়? অন্যদের মতো গুলি খেয়ে মরে মরে বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকতে হত।