সূচীপত্র

কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, জুলাই ২৭, ২০১৮

আমাদের আনন্দ আছে

আমাদের হৃদয়ের ভেতর এক আনন্দ আছে।
এই আনন্দ নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি।
বেঁচে থাকি মাঠে, ধানের ভেতর কিংবা এক ঘড়া জলে
যেখানে গাঙপাড় হতে নেয়ে আসে ছলিমের বউ, ভেজা কাপড়ে!
ঘড়া কাঁখে হেলেদেুলে আসে, পানি ঢালতে গরুর গোয়ালে।
গোয়ালে বড় বড় চাড়ি!
আনন্দ আছে সিথানের বালিশে! একটা বালিশ পরিত্যাক্ত হলে পরে
অন্ধকারেও আনন্দ আছে!
কিছুক্ষণ।
অথবা বকরির খোঁয়াড়ে পাঁঠার অত্যাচারে আমাদের আনন্দ!
এইসব আনন্দ নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি- অন্ধকারে কিংবা আলোতে।
ঘরে এবং বাইরে।
সদরে এবং অন্দরে।
এই যে চন্দ্রগ্রহণ হবে, এখানে আমাদের আনন্দ!
চাঁদের নরম আলো অন্ধকারে তলিয়ে যাবার আশায়
রাত জেগে জেগে, হই হুল্লাড় করে অপেক্ষা করি আমরা।
মাংস আর পানীয় নিয়ে বসি। খাই। ফেলাই।
চন্দ্রগ্রহণে আনন্দ আছে!
খাওয়াতে এবং ফেলানোতেও!
বন্যার তোড়ে ধ্বসে যাওয়া ঘর দেখতে দেখতে আমরা চা খাই।
টিভিতে কিংবা ফেসবুকে এইসব দেখি।
দেখাতে আনন্দ আছে!
গল্প করি শহরের রেঁস্তোরায় কিংবা গলির মুখের টং দোকানে-
‘মানুষেরা আসে। শহরে।
দলবেঁধে।
সারি সারি।
মানুষেদের ঘর নাই। খাবার নাই।’
কিংবা এইসব লিখে লিখে আমরা ফেসবুকে থুই।
ফেসবুকে আনন্দ আছে।
গল্পতেও।

২৭ জুলাই ২০১৮, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮

এইগুলি কী গাছ?

জীবন আর মরণের ব্যবধানে একটা কিছু থুয়ে আমি যাব।
আমার অধঃপতনের সীমা শেষ হইবার আগে, ত্যানা দিয়ে
ক্ষতবিক্ষত সময়ের বীজ ছোট ছোট পুটলিতে বেঁধে আমি গুণবো-
এক, দুই, তিন...
সূর্য ডোবার পর, ক্রমাগত শুকিয়ে চলা মরা নদীর মতো 
আমারও সময় ফুরিয়ে যাবে শেষে! ধীরে! ধীরে! নরম মাটির ভেতর!
এইভাবে ফুরিয়ে যাবার আগে-
সেইসব পুটলি, ধানের ক্ষেতের কোণায় আমি পুতে পুতে থুবো। গোপনে।
একদিন কাকডাকা ভোরে, ঘাসের আড়ালে পুটলি হতে গজানো
অবিস্মরণীয় গাছগুলি থমকে দেবে চাষাদের ধারালো কাস্তে!
ক্ষেত নিড়ানোর কালে, উদ্ভট আবেগে রেখে দেবে চাষারা সেই সব গাছ!
আহা! গাছ! অচেনা গাছ!
গোড়া হইতে আগাছা সাফ করিবার পরে, তাহারা কবে- এইগুলি কী গাছ?
কী অদ্ভুত! কী করুণ! কী আপন! কী মনোরম! আহা! কী সুন্দর!
একদিন সব দুর্বৃত্তের উস্কানিতে সরল চাষাগুলি চালিয়েছিল নির্মম কাস্তে
এইসব গাছে! তাহারা ফিরিয়া আসিবে ফের, পুটলিতে বাধা বীজের ভেতর।
মহাসমারোহে উঠিবে জেগে আমাদের নিজের গাছগুলি, ফুলে আর ফলে!
নতুন শতাব্দীতে, নতুন বিপ্লবে, আমরা ফলাবো আমাদের ফসল, নতুন করে।

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯, ২০১৮

পরানের ভেতরে গাছ

পরানের ভেতরে একটা গাছ হইছে!
গাছে তো ফুল নাই, ফল নাই।
একটা পাখি এসে বসে আছে পরানের ভিতরে! গাছে।
চোট লাগা পাখনায় পাখির বড় জ্বালা!
আমি কই- পাখি রে, তোর কত জ্বালা রে!
আয় কাছে পরায়া দেই ঘাসফুলের মালা রে!
পাখি কয়- আমি তো রে পাখি!
হেসে খেলে নেচে নেচে গাছে গাছে থাকি।

মঙ্গলবার, জুলাই ১৭, ২০১৮

আমাদেরও ছাও হবে।

একদিন আমারে তুমি দিয়েছিলে ময়ূরের পাখ!
পাখের ছাও হবে ভেবে বইয়ের ভেতর রেখে দিছি বহুদিন!
দিবানিশি দেখছি বাইর করে করে। ছাও তো হয় নাই।
আমাদের ছাও হয় নাই আর।
ছাও হবে ভেবে ভেবে আমাদেরও কাটে দিন, রাত।
গাঙ পাড়ে হেঁটে এসে তোমারে কয়েছিলাম- হাঁসেদের কত ছাও!
কিংবা একটা শৈল মাছ তার একঝাঁক ছাও নিয়ে পানির ভেতরে ঘোরে!
কী সুন্দর!
শৈল মাছ আর হাঁসেদের ছাও দেখে দেখে তোমারে কয়েছিলাম-
আমাদেরও ছাও হবে।
কোথাও ভোর বেলা ঘুরে ঘুরে এসে ছাওদের খাইতে দেব- লজেন্স!
কিংবা ভরা কুয়াশার রাতে গায়ের চাদর খুলে ছাওদের ঢেকে দেব গাও!
এরপর, বেতবাগানে ঘুরে ঘুরে জোনাকি ধরে ধরে এনে দেব হাতে!
ওদের কী ফূর্তি !
গাঙপাড় হতে একটা গাঙচিলের পাখ এনে তোমারে কই-
ধরো, বইয়ের ভিতর থোও। আমাদের ছাও হবে।
কী সুন্দর!

১৭ জুলাই ২০১৮, ঢাকা।

সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮

সোনা রে, বাঁশতলাতে আসো

সোনা রে, বাঁশতলাতে আসো।
দেখো, এইখানে একটা ডাহুক ডাকে-হুহুম! হুহুম! হুহুম!
আমরা চা'বো জোড়া জোড়া চোখে; বিমর্ষ ডাহুকের দিকে! 
হহসসসস..! ধীরে! ধীরে! ফিসফিসিয়ে!
ডাহুকেরও চোখ আছে! চোখেতে বিমার আছে কিংবা হৃদয়ে!
দেখো, ডাহুকের হৃদয়ের ব্যথা আমাদেরও বুকে বাজে-
হুহুম! হুহুম! হুহুম! হুহুম..
সোনা রে, আমাদের হৃদয়ও তো ডাহুক হয়ে গেছে,
আজ কিংবা বহুদিন আগে!
বাজে- হুহুম! হুহুম! হুহুম! হুহুম!
আমরা এসেছি পৃথিবীতে, একটা হৃদয় সাথে নিয়ে।
আমাদের হৃদয় আছে কিংবা একটা ডাহুক!
হৃদয়েরও চোখ আছে। দ্যাখে- দূরে এবং কাছে।
হৃদয় অন্ধ হবার আগে, বাঁশতলাতে আসো- আস্তে! আস্তে!
দেখো, দুটি হৃদয় কাছে এলে করে- হুহুম! হুহুম! হুহুম!
চলো, এইখানে ক্ষ্যাপাটে বাতাসে মিশে যাক আমাদের হৃদয়,
একে অপরের ভেতরে! ডাকুক- হহুম! হুহুম! হুহুম!

১৬ জুলাই ২০১৮, ঢাকা।

শনিবার, জুলাই ১৪, ২০১৮

পৃথিবীতে এখনও তো আশা রয়ে গেছে!


মনে পড়ে, এক টলমলে বিলের ধারে
কালো গায়ের জেলেটি ভাগা দিয়েছিল ইচা মাছ!
আমাকে ডেকেছিল কঙ্কালসার জেলেটি, ভেসাল হতে নেমে
কয়েছিল, মাছ নেবে, হে? বিলের জলের রুপোর মাছ?
ভেসাল হতে নেমে এসেছিল বুভুক্ষ জেলে, অসময়ে, মাটিতে।
কাতর!

জেলের বুকের সেইসব অবসন্ন হাহাকার নেমে আসে রোজ,
এইখানে, মানুষের হৃদয়ে!
পৃথিবীরে কয়েছি আমি, অন্তিম হাহাকার করিবার আগে
বিধ্বস্ত হৃদয়ের রূপসীর এলোচুলের ঘ্রান নেমে আসে যেন
দূর হতে, আমার আধাখোলা জানলায়, দক্ষিণের নরম বাতাসে!
পৃথিবীতে এখনও তো আশা রয়ে গেছে!


জুলাই ১৩, ২০১৮
মোহাম্মদপুর, ঢাকা।



বৃহস্পতিবার, জুলাই ১২, ২০১৮

আবালের মুখে টোনা লাগাতে হবে

একটা আবাল ছুটে ছুটে ধান খায় কবে থেকে!
উত্তরের ক্ষেতে খায় ধান, ছুটে ছুটে।
আবালের মুখে টোনা লাগাতে হবে ভেবে ভেবে
প্রতিদিন ঘুমিয়ে পড়ি আমি, পাটি বিছায়ে, দাওয়ায়।
আমি এক ক্লান্ত গেরস্ত!
গেরাস্তালি পেতেছি আমি সেই কবে! আলগা হাওয়ায়!
সারাদিন গরু ঠেঙায়ে ঠেঙায়ে লাঙল বাইবার পর
ঘুম আসে আমার দাওয়ার বাতাসে! আহা! কী আরাম!
ঘুমিয়ে যাবার আগে ভাবি- আবালের মুখে টোনা লাগাতে হবে।

মঙ্গলবার, জুলাই ১০, ২০১৮

সেই বিকলাঙ্গ কুকুরটি

সেই বিকলাঙ্গ কুকুরটি হয়ত প্রান্তরের পথ দিয়ে হাঁটতেছিল।
আমি তখন মতিঝিলে।
বসে বসে মুরগী দিয়ে ভাত খাইতেছিলাম এক থাল।
গিলা-কলিজা। ঝাল!
আর একবাটি ডাল।
এইসব ঝাল হাড্ডি মাংস মটমট শব্দ করে চিবাইতেছিলাম আমি।
কুকুরটি ক্ষুধার্তের বিক্ষোভ নিয়ে ঘেউ ঘেউ করে খোড়াইতে খোড়াইতে
নদীর পাড়ে গিয়া থামছিল? গরম!
নদীর ঘোলা জলে কুকুর তার ছায়া দেখছিল? আমিও দেখছিলাম ছায়া আমার
একবাটি ডালের ভেতরে! আবছা।
এখানে জীবনের ছায়াগুলি আবছা। জীবনও।
কুকুরের।
আমারও।
ঘোলা পানির ভেতরে।
কিংবা ডালের ভেতরে।
আমরাও আবছা- একে অপরের ভেতরে।

মঙ্গলবার, জুন ২৬, ২০১৮

মারা যাইবার পর

মারা যাইবার পর একটা কবর খোড়া হয়।
কবরে মড়ারা শোয়!
পশ্চিম আর পুব নিয়ে মাতামাতি শেষ হবার পর,
শোয়। 
আকাশের দিকে মুখ করে
উত্তর-দক্ষিণ দিকে শোয়।
তারপর
আর কোনদিন ওঠে না।

সোমবার, জুন ২৫, ২০১৮

খেলার ছড়া

খেলা নিয়া মেলা কথা
বন্ধু, তুমি গেলা কোথা?
আসো আসো খেলা দেখি
আমরা তো অকর্মার ঢেকি!
কাম নাই, কাজ নাই
সব খেলাতে ঝাঁঝ নাই।
চলো চলো শুয়ে পড়ি
শুয়ে করি গড়াগড়ি।
কী জানি কী হইল রে
বাইরে শুনি, হা-রে-রে!
অই পল্টু টিভি খোল
এইবার বুঝি হইছে গোল!
গোল গোল গোল গোল
ফূর্তি করে খাবো ঘোল!
ঘোল খাই আর বাজাই খোল
আমরা সবে আধ-পাগল!

এইসব শকুনেরা

এইসব শকুনেরা মরা গরুতে বসে!
ছিঁড়ে, খায়।
ডোমগুলি এসে এসে শকুন খেদায়।
ছিলে, গান গায়।
গরু নিয়ে কাড়াকাড়ি, খোড়াখুড়ি শেষে 
হাড্ডিগুলি পড়ে থাকে।
চামড়া কিংবা মাংসের আমোদ নিয়ে
শকুনেরা ঘরে ফেরে এবং ডোমেরা
বাজারে?

রবিবার, জুন ০৩, ২০১৮

মানুষেরা হাঁটিতেছে কুত্তার পিছন পিছন

মানুষেরা হাঁটিতেছে কুত্তার পিছন পিছন। 
দড়ি ধরে ধরে হাঁটিতেছে।
হাঁটিতেছে রোজ পশ্চিমের দিকে! হাঁপাইতেছে
ভাদ্দুরে কুত্তার মতো জিহ্বা বের করে নিয়ে
এবং তাদের মাতা কিংবা পিতাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে এসে
হাঁটিতেছে। হাঁপাইতেছে নেড়ি কিংবা বিলেতি কুত্তার মতো!
কুকুরেরা প্রভুভক্ত কিংবা কুকুরভক্ত মানুষেরা ভক্ত
মাদি কুকুরের এবং তাদের মায়ের, বাপের। ভাইয়ের। বোনেরও!

অতঃপর কুকুরের পিছনে পিছনে দড়ি ধরে ধরে হাঁটিবো আমরা

মায়েদের সস্তা কাপড়গুলি রোদে শুকাইতে দিবার পর
ধোপাগুলির অবসর থাকিবে না আর!
পিতাদের ঘামে ভরা পাঞ্জাবি আর টুপি শুকাইতে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাবে ওরা!
আমাদের ভাইয়েদের, বোনেদের নতুন কাপড় কিনিবার আগে
আমরা কিনিবো কুকুরের পোষাক! দাম দিয়ে!
অতঃপর কুকুরের পিছনে পিছনে দড়ি ধরে ধরে হাঁটিবো আমরা
জিহ্বা বের করে নিয়ে হাঁপাইবো কিংবা হাঁটিতে হাঁটিতে যাইতে থাকিবো
পশ্চিমের দিকে অথবা ব্লকবাস্টার মুভি দেখিতে দেখিতে ঘুমাইয়া পড়িব। নিরবে।

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য

পিতা আর মাতাকে ডাস্টবিনে ফেলাইয়া দিয়া আসিবো আমরা
কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে রাখিয়া আসিবো নিরাপদে!
সেল্ফ হইতে কাফকা কিংবা কামু পাড়িয়া পড়িতে বসিব শান্তিতে
অথবা মার্ক্স পড়িতে পড়িতে ঘুমাইয়া পড়িবার আগে
নরম হাতের চা কিংবা কফি হাতে খাড়াইয়া রবে কেউ!
আহা! আমি কি রোমান্টিক হইয়া পড়িব? না।
বরং উত্তপ্ত দ্রোহের আগুন জ্বলিবে আমার বুকে!
সাম্য আর প্রগতির আগুন ঝরানো কথা কইবো আমি আজ!
রক্তলাল চোখে চিৎকার দিয়া উঠিব আমি!
জ্বালাময়ী কন্ঠে কইবো- ‘প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য।’

শনিবার, জুন ০২, ২০১৮

পাগলগুলা গান গাইতেছে

পাগলগুলা গান গাইতেছে।
গান গাইতেছে বসে ফুটপাতে, উপুড় হয়ে
শুয়ে শুয়ে এবং চিত হয়ে। গান গাইতেছে।
এরপর
ভাল লোকেরাও আসতেছে ছুটে গান গাইতে
ফুটপাতে শুয়ে শুয়ে কিংবা চিত হয়ে। গান গাইতেছে।
কোরাসে গান গাওয়া ভাল কিংবা ভাল নয়
গান না জেনে। পাগলেরাও গান গায় কোরাসে। না জেনে।
এবং মাতালেরা।
সব গান কি ভাল কিংবা কোরাস? না জেনে?

বুধবার, মে ৩০, ২০১৮

কী ছিঁড়তেছি?

হামু দিয়া থাকি। 
ক্ষ্যাত নিড়াই। ধান ক্ষেতে কলমি শাকগুলি পেঁচায়া ধরছে 
সোনার ধানেরে। এইসব বরং ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলি।
আগাছা এইসব কিংবা শাক।
শাকেরও দাম আছে, মায়া হয় ছিঁড়তে!
তবুও দুটা ভাতের আশায় ধানগাছগুলি বড় হোক বরং-
এই ভেবে ছিঁড়তেছি। কলমি শাকগুলি নাকি ধান?
ধান ছিঁড়তেছি?
আহা! ধান কেন ছিঁড়তেছি? সোনার ধান?
কলমি শাকেরা কই?

আলোর সমুদ্র আমি দেখি নাই কোনদিন

তোমার চোখে এত অন্ধকার ক্যা?
আলো বাইর হবে ভাইবা বইসা রইছি মাচালির উপর।
মাচালিতে বইসা দেখি- তুমি উঠান ঝাড় দিতেছো!
কী সুন্দর তোমার উঠান! তোমার গাল! তোমার চোখ!
ছ্যাচড়ায়া ছ্যাচড়ায়া যাইতেছে তোমার শাড়ি, নীল রঙের!
তোমার চোখ থেকে আলোর সমুদ্র বাইর হয়া আসুক।
মাচালির উপর থেকে আমি আমি ঝাঁপ দিয়া পড়মু।
সমুদ্রে!
আলোর সমুদ্র আমি দেখি নাই কোনদিন।

রবিবার, মে ২৭, ২০১৮

বকেরা কোথায় যায়?

ক্ষ্যাতের আগায় একটা বকপক্ষি বইসা রইছে দেখছিলাম।
ক্ষ্যাতেরও আগা আছে যেমনি ইতিহাসের থাকে।
কোঁদাল কিংবা লাঙল দিয়া কাইটা লোকেরা ক্ষ্যাতের আগা বাড়ায়
ইতিহাসও কাটা যায়, বাড়ান যাইতে পারে কিংবা ক্ষমতার চাপা দিয়া
কমান যায় যেমনে বড় কৃষক ছোট কৃষকের ক্ষ্যাতরে চাপাইতে চাপাইতে
কমায়া ফালায় কিংবা দখল কইরা ফালায়। দাগ নং, মৌজা কিংবা জোত
নিশ্চিহ্ন কইরা ফালায় নতুন রেকর্ডে। এইভাবে ক্ষ্যাত কিংবা ইতিহাস
দখল হইবার পর বকপক্ষি উইড়া যায় কোথায় জানি।
আর আসে না। বসে না ক্ষ্যাতের আগায় কিংবা ইতিহাসের।
বকেরা কোথায় যায়?

আমাদের চেয়ার নাই

জমিদারের পোলাগুলি চেয়ার নিয়া গেছে কাল, মাইয়াগুলিও।
আমাদের চেয়ার নাই। আমরা মাটিতে হামু দিয়া ধান নিড়াইতেছি খালি
পাকলে পরে ধান, আমরা কাটতেছি, মলন দিতেছি গরুর সাথে।
আমাদের ঘাম হয়, পিপাসা লাগে পানির, খিদা লাগে খুব!
চেয়ারে বইসা উত্তুরে হাওয়ায় আমাদের একটু জিরাইতে মন চায়!
আমাদের চেয়ার নাই। হামু দিয়া আমরা ক্ষ্যাত নিড়াই, ধান ফলাই-
সোনার ধান! আমাদেরও চেয়ারে বসতে মন চায়, উত্তুরে হাওয়ায়।

ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু

আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! কয়ে-
মুয়াজ্জিন আযান দিবার পর
আমার ঘুম ভাঙে না।
আমারে শয়তানে ধরছে বহুদিন আগে।
গা টিপে টিপে শয়তান আমারে ঘুম পাড়ায়ে রাখে।
এইভাবে ঘুমাইতে ঘুমাইতে আমার নেইলদাড়া ব্যাকা হয়,
ব্যাকা হয় আমার ঘাড়। আমার মনটাও ব্যাকা হইছিল
অনেকদিন আগে। মনের ভিতরে শয়তানের পোকা বাছতে বাছতে
আমারও ক্লান্ত লাগে। ঘুম আসে আমার। আমি তো ঘুমায়া আছি বহুদিন!
ব্যাকা মন নিয়া ঘুমাইতে ঘুমাইতে আমি শয়তানের পোকা বাছি
ঘুমের ভেতরে। অনাদিকালের ঘুমের জেরে আমার ক্লান্ত লাগে ফের!
আমি ক্লান্ত!
'ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।'