সূচীপত্র

নির্বাচিত ফেসবুক পোস্টসমূহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নির্বাচিত ফেসবুক পোস্টসমূহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২০

মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার এক এবং একমাত্র মাধ্যম হল- 'চেতনা।'

মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার এক এবং একমাত্র মাধ্যম হল- 'চেতনা।'
একই সাথে মানুষ সাধারণত পারস্পরিক সংঘর্ষ নাই এরকম ভিন্ন ভিন্ন চেতনা লালন করে।
আমি দেখেছি যে, এই বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ প্রধানতম যে চেতনা লালন করে তা হল- 'ধর্মীয় চেতনা।'
ধর্ম পালন করুক কিংবা না করুক, ধর্মীয় বিধান সঠিকভাবে মানুক কিংবা ভুলভাবে মানুক, 'বিশ্বাস' এর জায়গায় কোন ছাড় নাই।
রাজনৈতিক চেতনা এখানে 'সাধারণত' 'মাঝারি মানের চেতনা।'
সাধারণত 'প্রধানতম' চেতনা যদি 'মাঝারি' কোন চেতনা দ্বারা ক্রমাগত আক্রান্ত হতে থাকে, তবে মাঝারি চেতনাগুলি ক্রমে ক্রমে নিঃশেষ হতে থাকে কিংবা স্থানান্তর হতে থাকে।
গণমানুষ থেকে এই 'মাঝারি' চেতনা যে কোন কারণে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠী যদি নিঃশেষ হতে দিতে থাকে তবে এটা তাদের জন্য শংকার।
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই বিশেষ বিশেষ 'চেতনা'র উপর প্রতিষ্ঠিত। তাদের এই 'বিশেষ চেতনা' যদি অসাবধানবশতঃ কখনও গণমানুষের 'প্রধানতম চেতনাকে' আক্রান্ত করে বসে তবে গোটা রাজনৈতিক দলই ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।

শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০

রাষ্ট্রের সরকার দান করে না।

রাষ্ট্রের সরকার দান করে না।
রাষ্ট্রের সরকার জনগণের সম্পদ, জনগণের জন্য, জনগণের ভান্ডারে আপোদ/দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জনগণ প্রদেয় সুরক্ষা ব্যয় দ্বারা সঞ্চিত/ সুরক্ষিত রাখে। আপোদকালে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপোদে নিপতিত জনগণকে বন্টন করে, ফেরত দেয়।

রবিবার, মার্চ ০৮, ২০২০

মানুষকে নতুন করে 'মানুষ' হওয়ার দরকার নাই।

মানুষকে নতুন করে 'মানুষ' হওয়ার দরকার নাই। আপনি যখন নারীকে 'মানুষ' হইতে বলেন, তখন আপনি 'নারী' হওয়াকে 'অবজ্ঞা' করেন। নারী তো মানুষ-ই আছে। পুরুষও। ছিল। আছে। থাকবেও। নারী নারীই থাকুক। মানুষ হিসেবে এই ধরাধামে 'নারী'র যা অধিকার তা সে পুরোপুরি অর্জন করুক। ভোগ/উপভোগ/আদায় করুক। আপনি বরং নারীর যা হক তার প্রতিবন্ধক না হন। আপনি পুরুষ 'পুরুষ'ই থাকুন। বরং সুপুরুষ, মানে ভাল পুরুষ হোন। ভাল পুরুষমাত্রই নারীর হক আদায়ে সচেষ্ট থাকেন। তেমনি ভাল নারীমাত্রেই পুরুষের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকেন।
এখন বলি মানুষ কী।
পাপ, পূণ্য, সুখ, দুঃখ, রাগ, ক্রোধ, বিবেক, বুদ্ধি ইত্যাদি দোষ, গুণ আছে যাদের তারা মানুষ। মানুষের অপরাধ থাকে। পশু, পাখি, গাছপালা, মানে প্রকৃতির কোন অপরাধ থাকে না। সুতরাং মানুষকে 'মানুষ' হইতে বলা বলদামী। নারীও মানুষ, পুরুষও মানুষ, তৃতীয় লিঙ্গও মানুষ। মানুষের সব পরিচয়ই সম্মানের।
মানুষ নারী, পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গ যা-ই হোক, 'ভাল মানুষ' হওয়াটাই জরুরী। বলদামী কর্মকান্ড, চিন্তা ভাবনা, তত্ত্ব, তথ্য জরুরী না।
নারী, পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, প্রাণ-প্রকৃতি, ধর্ম, বর্ণ, দল, মত, সম্প্রদায় প্রভৃতি আইডেন্টিটিকে সম্মান করে, ভালবেসে, সকলে মিলে শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ বসবাসের চেষ্টা করা বরং জরুরী।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

ভাই, বইমেলায় যান?

-ভাই, বইমেলায় যান?
- যাইতে পারি নাই। দেখি। অবসর পাইলে যাইতে পারি।
- কন কী! ঘরের কাছে এত বড় একটা মেলা হইতেছে! কত লোক দূর দূরান্ত থেকে আসতেছে। আপনি যান নাই! কত কত লেখক, কবির সাথে দেখা হইতো!
- দেখো, বই মেলায় যাওয়া ভাল। বই কিনতে যাওয়ার জন্যেও ভাল, ঘুরতে যাওয়ার জন্যেও ভাল। আমি যে যাই না, তা নয়। অবসরে বেশ কয়েকবার গেছি। বই-ও কিনছি। আর এই যে বললা- লেখক, কবিদের সাথে দেখা হওয়ার কথা, তাঁদের সাথে দেখা হওয়ার আমার কী কাজ?

আপনি 'দাস পর্যায়ে' আছেন।

'অনেক পোস্টেই আপনি লাইক দিতে চান কিন্তু দিতে পারেন না। আবার অনেক পোস্টেই আপনি লাইক দিতে চান না কিন্তু দিতে হয়।'
যখন আপনার অবস্থা এরকম, তখন বুঝবেন আপনি 'দাস পর্যায়ে' আছেন।
বিশেষত শিল্পে, সাহিত্যে এই দাসত্ব থেকে বের হতে হলে আপনাকে 'দলছুট' হয়ে থাকতে হবে। দলছুট সবাই হইতে পারে না। এর জন্য ভরপুর আত্মবিশ্বাস, প্রজ্ঞা থাকতে হয়।
একবার দলছুট হবার পর আপনি দেখবেন আপনি 'নির্বাণ' লাভ করছেন। আপনি আরো দেখবেন যে, এতদিন আপনার মস্তিষ্কে আপনারই শত্রুর নানারকম বীজ আপনি বপন করে যাচ্ছিলেন, বহু পরিচর্যা করে সেগুলিকে ফলাচ্ছিলেন। দিনের পর দিন অন্য মস্তিস্কেও সেগুলি ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
একদিন বাড়ির পাশের পুকুরে যান। ডুব দিন। এইসব 'ঘোর' থেকে বের হয়ে গিয়ে নিজের কাজে, নিজেদের কাজে লেগে পড়ুন।
খোদা আপনার সহায় হোন। আমিন।

আপনি জানেন কি, আপনার খাঁচা আপনি নিজেই তৈরি করেছেন?

আপনি জানেন কি, আপনার খাঁচা আপনি নিজেই তৈরি করেছেন? আপানার অচলায়তন আপনি ভাঙতে পারছেন না। আপনার সঙ্ঘ, আপনার সমিতি, আপনার সিন্ডিকেট, সর্বোপরি আপনার সার্কেল আপনাকে গ্রাস করেছে। আপনার ভিতর 'হুজুগে প্রবণতা' প্রকট হয়ে আছে। আপনি যা লিখছেন, যা নির্মাণ করছেন তাতে আপনার সার্কেলের চিন্তার ভয়াবহ প্রতিফলন আছে! আপনি আসলে আপনার কথা বলতে পারছেন না, আপনার চিন্তার প্রকাশ করতে পারছেন না।
আপনি তো আপনি নাই।
আপনার শিল্পও তাই আপনার নয়।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

একুশে ফেব্রুয়ারি ও ধানমন্ডি লেক

দুপুরে ঘুমাইছি অনেক। বিকালে উঠছি। দুপুরে অনেকগুলা ভাত খাইছি। মুরগীর তরকারিডা স্বাদ হইছিল। কয়েকদিন আগে খালা শ্বাশুড়ীর বাড়ি থেকে ক্যাপসিকাম পাঠাইছিল। ব্রকলিও। এখন মানুষ শখ কইরা বিদেশী সবজিও চাষ করে। ফলনও ভাল হয়। যাই করুক, ফলন বেটার হইলেই ভাল। সবজির কোন অপরাধ নাই। দেশী কিংবা বিদেশী যা-ই হোক।
ইউটিউব থেকে রেসিপি নিয়া বাসায় ক্যাপসিকাম দিয়া মুরগীর মাংস রানছে। গরম গরম খাইতে ভাল লাগছে।
বাজার আনতে যাওয়ার ছিল। বাসা থেকে পাঁচটার দিকে নামছি। ডাক্তারখানায় গিয়া মা'র জন্য ডাক্তারের সিরিয়াল দিছি আগে। বাজারে ঢোকার আগে একটু রবীন্দ্র সরোবরে ঢুকছি। ওইখানে ভাষার গান হইতেছে দেখলাম। খানিক দাঁড়ানোর পর ফাপর লাগতেছিল। হায় রে মানুষ! মানুষ আর মানুষ! লোকেরা খাইতেছে। কোন টেবিল খালি নাই। লুচি, চাপ, চা, কফি আরো কত কী! ছেলেরা কালো পাঞ্জাবি পরছে। সুন্দর সুন্দর ফর্সা রমণীরা সাদা-কালো শাড়ী পরছে। খোপায় সাদা রঙের ফুল। কী সুন্দর লাগতেছে। ঘুরতেছে ওরা, হাসতেছে। কী ফূর্তি!
ফতুয়া-প্যান্ট পরা, প্রতিবাদী, বিপ্লবী টাইপ মেয়েরাও আছে কিছু। বিপ্লবী টাইপের মেয়েগুলি দেখতে সুন্দর না। অযত্ন, অবহেলায় সুন্দর মুখশ্রীটারে পুড়ায়ে ফেলছে ওরা।
যাই হোক, হাঁটতে হাঁটতে ব্যাচেলর পয়েন্টের দিক দিয়া বাইর হইছি। আসার সময় এক হিজড়া পথ আটকাইছিলো। ওঁরে ১০ টাকা দিয়া ছাড়া পাইছি। Anam Rangs-এ গিয়া বউয়ের জন্য একটা কালা রঙের ড্রেস কিনছি। অফিসে যাওয়ার জন্য। ভাষা দিবসের ড্রেস।
ক্ষিদা লাগছিল। ভাবছিলাম রবীন্দ্র সরোবরে গিয়া লুচি আর মুরগী ভাজা খাবো। চান্স পাই নাই। ভিড়। Boomers-এ ঢুইকা দুইজনে দুইটা সেট মেন্যু খাইছি। দাম বেশি না।
ওখান থেকে আইসা বাজারে ঢুকছি। বাজারেও ভিড় রে ভাই! চাইল, ডাইল, ত্যাল, আলু, পিঁয়াজ,শাক-সবজি, মাছ-মাংস কিনছি। গরুর মাংসের দাম একটু কমছে।

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

ভাষা আন্দোলন কেন হয়েছিল?

ভাষা আন্দোলন কেন হয়েছিল?
ভাষা দিবসে প্রভাতফেরীতে ফুল দেওয়ার জন্য?
কেবল ভাষা আন্দোলনের থিম সং গাওয়ার জন্য?
ভাষা দিবসে 'ভাষা সংক্রান্ত' 'আধুনিক গান' গাওয়ার জন্য?
নাকি এই বাংলার মাটির গান গাওয়ার জন্য?
মায়ের ভাষায় প্রাণ ভরে কথা বলার জন্য?
মায়ের ভাষায় হাসি, আনন্দ, দুঃখ প্রকাশের জন্য?
এমনকি মায়ের ভাষায় গালিও দেওয়ার জন্য?
আজ ভাষা আন্দোলনের এত বছর পর আপনারা 'ঠিক করে' দিচ্ছেন আমাদেরকে কিভাবে কথা বলতে হবে, কী কী গান গাইতে হবে?
কেন?
কে শিখাইছে এসব আপনাদের?
কোথায় শিখছেন এসব?
জানেন তো, ভাষা 'ঠিক' করে দেওয়ার বিরুদ্ধে, গান 'ঠিক করে' দেওয়ার বিরুদ্ধেই আন্দোলন হয়েছিল। রক্ত দিয়েছিল আমাদের ভাইয়েরা।
আমি তো, তৎকালীন 'ঠিক করে' দেনেওয়ালা আর বর্তমানে 'ঠিক করে' দেনেওয়ালেদর মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পাই না।।

আধুনিক গান ও পল্লীগীতি মীমাংসা

পাশ্চাত্য সুরের প্রভাবযুক্ত, পাশ্চাত্য তাল-লয়ের ভিতর প্রমিত বাংলা কথা ঢুকিয়ে আপনি যে গান বানালেন তাকে আপনি নাম দিলেন 'আধুনিক গান।'
এই আধুনিক সুরে আপনি 'মায়ের ভাষা' রক্ষায় জীবনদানকারীদের উদ্দেশ্যে মর্সিয়াগীতি রচনা করছেন।
অন্যদিকে মায়ের ভাষার গান, আপনার নিজের মাটির গানগুলিকে 'পল্লীগীতি' তকমা দিয়ে নিদারুণ অবহেলায় চাঙ্গে উঠায়ে রাখছেন।
বাহ!

'দেশের গান' আর 'দেশাত্ববোধক গান' কি এক?

'দেশের গান' আর 'দেশাত্ববোধক গান' কি এক?
'দেশের গান' যদি আমেরিকান 'Country Song' কিংবা 'Country Music' এর অনুবাদ থেকে নেয়া হয়ে থাকে তবে এখানে সংক্ষেপে 'Country Music' এর একটি সংজ্ঞা রাখা যাক-
Country Music is defined as “a style and genre of largely string-accompanied American popular music having roots in the folk music of the Southeast and cowboy music of the West, usually vocalized, generally simple in form and harmony, and typified by romantic or melancholy ballads accompanied by acoustic or electric guitar, banjo, violin, and harmonica.”
(বিস্তারিত এই লিংকে : https://www.dictionary.com/e/what-does-country-music-mean/)
সচরাচর আমরা বাংলাদেশে 'দেশের গান' বলতে দেশ, জাতি কিংবা রাষ্ট্রের গুণকীর্তন করে যে গান হয় তাকে বুঝে থাকি। আসলে কি তা 'দেশের গান' নাকি 'দেশাত্ববোধক গান' হবে?
এইবার ভাবা যেতে পারে, বাংলাদেশে 'দেশের গান' আসলে কোনগুলো।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

তেলবাজদের সন্দেহ করুন। কোনঠাসা করুন।

আপনি যা নন, আপনার চামচারা যদি ক্রমাগত আপনাকে তা বানাতে থাকে, তবে জেনে নিন, আপনার কোন অর্জনও যদি থেকে থাকে, কালের পরিক্রমায় তা-ও ম্লান হয়ে যাবে।
চামারা কখনও প্রশংসা করতে জানে না। তারা যা দেয় তা হল 'তেল।' এই তেল আপনাকে দেয় শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। আখেরে যা আপনার জন্য মহাবিপদের কারণ হতে পারে।
মানুষমাত্রই তেল পেলে আরাম বোধ করে। তেলের নেশা আর তামাকের নেশা একই রকম। ক্রমাগত নিতে থাকলে তা একসময় নেশায় পরিণত হয়। কিন্তু, এই নেশা বড়ই ক্ষতিকারক নেশা।
নেশাকে না বলুন।
যে নেশা করতে বলে সে বন্ধু নয়।
সকল প্রকার 'তেলবাজদের' সন্দেহ করুন।
কোনঠাসা করুন।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

গাছ কাটা নিয়া আমার আপত্তি নাই।

গাছ কাটা নিয়া আমার আপত্তি নাই। তবে গণহারে বন ধ্বংস নিয়া আপত্তি আছে। প্রয়োজনে গাছ লাগাবেন, কাটবেন। নো প্রবলেম।
গাছ কাটুন। তা দিয়া ঘরবাড়ি বানান, ফার্নিচার বানান। ব্রিজ, সাঁকো বানান। চিতায় জ্বালান। নো প্রবলেম।
তবে গাছ লাগান। কাটেন, আবার লাগান।
গাছ লাগানো পুণ্যের কাজ। প্রয়োজনে কাটা গুনাহ নয়।
গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

এসএসসির আগে সকল বোর্ড পরীক্ষা বাতিল হোক।

আমাদের সময়ে এত গিড়ায় গিড়ায় বোর্ড এক্সাম ছিল না।
শিশু কিশোর বয়সে আমরা কেবল খেলতাম।
ডাঙ্গুলি, মার্বেল, হাডুডু, ফুটবল, ক্রিকেট, গোল্লাছুট, বউচি, দাড়িয়াবান্ধা, ডুবসাঁতার আরো কত কী খেলতাম।
মাঝে মাঝে খেলা নিয়া খামছাখামছি, মারামারি করতাম।
আমাদের পড়াটাও ছিল খেলা। ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব মিলে পাগাড়ে গিয়ে পাটি বিছায়ে পড়তাম। অংক করতাম।
সন্ধ্যাবেলায় বাড়িতে গৃহ শিক্ষক আসতেন। বড় টেবিল ঘিরে আমরা বসতাম। আমাদের গৃহশিক্ষকগণ ছিলেন পাড়াতো মামা, চাচা, ভাই কিংবা নানু, দাদু। আমরা তাঁদেরকে স্যার বলতাম না। মামা, কাকা, দাদা, নানা-ই বলতাম।
পড়া না পারলে তাঁরা আমাদের পিঠে হাতের কবজি ফাঁপা করে কিল দিতেন। আমরা সবাই খিল খিল করে হাসতাম। যেদিন জোরে দিতেন, ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতাম।
আমাদের শৈশব ভাল ছিল।
সত্যিই ভাল ছিল।
পরীক্ষায় ফেল করে কোন অবুঝ শিশু, কিশোর আত্মহত্যা করেছিল কি না আমরা জানি না।
আমাদের সময় ভাল ছিল। সুন্দর ছিল।
এখনকার মতো এমন ভয়ংকর ছিল না।
এসএসসির আগে সকল বোর্ড পরীক্ষা বাতিল হোক।

সোমবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

বগি রেখেই ইঞ্জিনগুলি এগিয়ে যেতেছে

বগি রেখেই ইঞ্জিনগুলি এগিয়ে যেতেছে
রোজ রোজ এগিয়ে যাবে এভাবে
লোকেভরা বগিগুলির গন্তব্য নেই আর!
বগিগুলি পড়ে রবে রেলে
অনন্তকাল!
জং ধরে পঁচে যাবে যাত্রীসমেত
মানুষের যাত্রা শেষ হবার আগেই
ছিঁড়ে গেছে হুক।
আহা!
ইঞ্জিনগুলি ছুটে ছুটে যেতেছে কেবল
বগিদের ছাড়া!

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

প্রোপাগান্ডা

ধরেন, আপনি কোন দেশে ব্যাপকহারে ছাগল আমদানী করতে চাচ্ছেন। কিন্তু, সেই দেশ ছাগলে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশীয় ছাগল ক্রয় করা থেকে পাবলিককে বিরত রাখার জন্য আপনি উন্নত দেশের কোন ভূঁইফোড় রিসার্চ ফার্মকে ভাড়া করলেন। এই ফার্ম একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে বলল যে, দেশীয় সকল ছাগলে মারণঘাতি রোগ আছে। এই ছাগলের গোশত খেলে সকল মানুষের পিলে চমকে যাবে। হাড় মড়মড় রোগ হবে।
এবার আপনি আপনার অনুগত কিছু প্রচার মাধ্যমে এই গবেষণাপত্রটি ফলাও করে প্রচার করলেন। প্রোপাগান্ডা ছড়ালেন আর কি!
এখন, আপনার বিদেশী ছাগলের মার্কেট তৈরি হয়ে গেল। এই সুযোগে আপনি ছাগল আমদানী শুরু করলেন। এইসব ছাগল বেচে বেচে আপনি টাকার পাহাড় গড়তে থাকলেন।
ঐদিকে, দেশীয় ছাগল লালন ও পালনকারীগণ মনের দুঃখে কেঁদেকেটে, বালিশ ভিজিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। আর কোনদিন জাগল না

রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

ভায়োলিনের সুর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (আমার বিশ্ববিদ্যালয়) আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে প্রথম বর্ষে ১১৩ নম্বর রুমে থাকতাম। ক্যাসেট প্লেয়ারে পিয়ানো, ভায়োলিন, স্যাক্সোফোন এসব শুনতাম। অনেকে মনে করতো আমি খুব দুঃখী। একদিন এক বড় ভাই বললেন- মিন্টু, তোমার এত দুঃখ কিসের, ভাই?
আমি বললাম- কেন ভাই?
-এই যে এই সমস্ত মিউজিক বাজাও। কেমন একটা বিষাদময় অবসেশন তৈরি হয়। মাঝে মাঝে তো আমিও কেমন বিষন্ন হয়ে যাই।
- সরি, ভাই।
- এখন থেকে আনন্দের গানও বাজাইও।
- জ্বী, ভাই।
- তুমি খুব ভাল ছেলে গো, মিন্টু।
- থ্যাংক ইউ, ভাই। আপনিও ভাল।
খানিক আগে বাসার আশপাশ থেকে ভায়োলিনের শব্দ ভেসে আসছিল। কেমন বিষন্ন, মায়াময়, সুন্দর!
ওটা শুনে আমার সেদিনের কথা মনে পড়ল।

শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

আপা থেকে আফা।

আপা থেকে আফা।
আপা থেকে আপু, আপি।
এসব একই।
তবে সম্বোধনকারীদের শ্রেণীগত পার্থক্য তো আছে। এই পার্থক্য আসে বৈষম্য থেকে।
বৈষম্য বিষয়টা প্রধানত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক। এই দুইটা ঠিক থাকলে বাকিসব সাধারণত এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়।

রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

শিল্পকলা ও ব্র্যান্ডিং

একটি গান কোন প্রতিষ্ঠিত, জনপ্রিয় শিল্পীর কন্ঠে আপনার বেশি ভাল লাগে।
সেই একই গান কোন অপ্রতিষ্ঠিত, অজনপ্রিয় শিল্পী যত সুন্দর করেই গাক না কেন আপনার কম ভাল লাগে।
এখানে যে নিয়ামকটি আপনার মস্তিষ্কে ক্রিয়া করে সেটা হল 'ব্র্যান্ড।' এই ব্র্যান্ড ইস্যুটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিল্পকলার ক্ষতি করে। কেননা আধুনিক কালে স্বাভাবিকভাবে এবং শুধুমাত্র স্বাভাবিকভাবে ব্র্যান্ডিং অনেকাংশে নির্ভর করে সামর্থ্যের উপর। শিল্পের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার সাথে যেহেতু বাণিজ্য জড়িত, তাই কম গুণসম্পন্ন শিল্পও ব্র্যান্ডিং এর কারণে বেশি গুণসম্পন্ন শিল্পের স্তুপ ফুঁড়ে বের হয়ে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে নেয়। সব সময় এরকম হয় তা নয়, তবে অনেক হয়। কোন কোন কালে তো এরকমই বেশি হয়।
এসবের কম বেশি হওয়া নির্ভর করে 'সিস্টেমের' ভালত্ব, খারাপত্বের উপর। এখানেও সিস্টেম ফ্যাক্ট।

রবিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৯

কবি সাহিত্যিক হতে হলে গরীব হতে হবে, এগুলো কারা আবিষ্কার করছে?

নাচ গান কি সাহিত্য থেকে আলাদা?
নাচে গানেও তো সাহিত্য আছে কিংবা সাহিত্যে নাচ গান আছে। নাকি নাই?
কতিপয় বিদেশী সাহিত্যিক ঢাকা লিট ফেস্টে এসে বাংলা গানের তালে তালে নেচেছে। এই নিয়ে আপনারা ট্রল করছেন। কেন রে ভাই? সাহিত্য উৎসবে নাচা নিষেধ? গাওয়া নিষেধ?
তো, সাহিত্য উৎসবে এসে, ঝোলা কাঁধে উদাস হয়ে ঘুরতে হবে? ডিলিউশনাল ফেইস নিয়ে গম্ভীর হয়ে বসে থাকতে হবে?
সাহিত্যে এই সমস্ত ধারণা ঢোকাইছে কারা?

কবি সাহিত্যিক হতে হলে গরীব হতে হবে, ছন্ন ছাড়া হতে হবে, এলিট হওয়া যাবে না, এগুলো কারা আবিষ্কার করছে?
শোনেন, দুনিয়াবী কাম কাইজ বাদ দিয়া, উৎপাদন, উন্নয়নে হাত না লাগাইয়া, কবি, সাহিত্যিকদের সারাজীবন ফকির, দরবেশ হয়ে কাটাতে হবে কেন?
কে শিখাইছে এগুলা?

মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

কোদালের বিরুদ্ধে কোদাল

ক্যাম্পাস উত্তাল হইছে।
পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে উত্তাল হইতো। এখন নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়।
কবিরা কবিতা লেখেন-
কোদালের বিরুদ্ধে কোদাল
বটির বিরুদ্ধে বটি
কাস্তের বিরুদ্ধে কাস্তে...
এইভাবে,
কোদালের হাতল বদলায়
বটির পিঁড়ি বদলায়
কাস্তের হাতল বদলায়
কোদাল কোদালই থাকে
বটি বটি-ই থাকে
কাস্তে কাস্তে-ই থাকে।
একদিন সকাল হলে দেখি,
কোনকিছুতেই আর ধার নাই।
সব ভোঁতা!
সব ভোঁতা!
সব ভোঁতা!